আমাদের সফল ইভেন্টসমূহ

মিশন গাইবান্ধা

মিশন গাইবান্ধা

২০১৪ সালে গাইবান্ধা জেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়। বন্যায় মানুষের ফসলের জমি নষ্ট হয়।ঘরবাড়ি, গবাদি পশু অনেককিছুই ভেসে যায়। গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন এরেন্দাবাড়ি। বন্যায় এরেন্দাবাড়ির প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওদিকের অধিকাংশ লোকজনই দরিদ্র আর বন্যার পানিতে তাঁদের সবই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের অভাবে অসহায় হয়ে পরে মানুষগুলো। তখন "লাইটার ইয়ুথ ফাউন্ডেশান" নিজেদের কতর্ব্য থেকে এগিয়ে আসে মানুষগুলোর পাশে। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক মাসের মধ্যেই টিম লাইটার সিদ্ধান্ত নেয় যে করেই হোক পাশে দাঁড়াতেই হবে বন্যার্ত মানুষদের পাশে।

শুরু হয় অনলাইন ও অফলাইনে লাইটারের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা, জোগাড় করতে হবে বানভাসি মানুষদের জন্যে বেচে থাকার রসদ। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক সপ্তাহের মধ্যেই সংগ্রহ হয়ে যায় নির্ধারিত টাকা আর তার পরপরই লাইটার টিম ঢাকা থেকে ত্রাণ নিয়ে এরেন্দাবাড়িতে যায়। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, এরেন্দাবাড়ির বন্যাকবলিত ৫০০ পরিবারকে ত্রাণ দেয় লাইটার ইয়ুথ ফাউন্ডেশান। প্রত্যেকটি পরিবারকে ৮ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১০ টি করে স্যালাইন, দুই পাতা পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও এক প্যাকেট মোমবাতি দেয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সফর আলী- মিশন ১৯৭১(২০১৪)

মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সফর আলী- মিশন ১৯৭১(২০১৪)

কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর গ্রামের বাসিন্দা। ‘সবার আগে দেশ’- এই আপ্তবাক্য বুকে ধারণ করে ১৯৭১ সালে স্ত্রী ও ছোট্ট সন্তানকে রেখে চলে গিয়েছিলেন দেশ স্বাধীন করতে। কোরমা বাগানে শত্রুদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে হারিয়েছিলেন বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা গনিকে। ৩৬ টি হ্যান্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে টানা সাতদিন ব্লক করে রেখেছিলেন পাকিস্তানী সৈন্যদের। আরও কত সেই লোমহর্ষক অভিজ্ঞতাগুলো! দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরে দেখলেন, ঘর বলতে কিছু নেই। সব জ্বলে-পুড়ে শেষ। সহায় সম্পত্তি বলতে কিছুই ছিল না, তাই পেট চালানোর জন্য সফর আলী নামের এই 'মুক্তিযোদ্ধা' শুরু করলেন রিক্সা চালানো! এভাবেই শুরু হলো তাঁর জীবন সংগ্রাম। স্ত্রী মারা যাওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। বিয়ের পর প্রথম পক্ষের সন্তানরা ফেলে চলে গেলো তাঁকে। নিজের জায়গা না থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাইয়ের বাড়ীতে উঠলেন। যত দিন শরীরে শক্তি ছিল কাজ করে দুজনের খাবারের টাকা যোগাতেন। এখন ডান হাতে ইনফেকশন হওয়ায় কিছুই করতে পারেন না। ডান হাতের অবস্থা এতটাই বীভৎস, দেখলে শিউরে ওঠবে যে কেউই! সরকারের পক্ষ থেকে মাসে দুই হাজার টাকা করে পান। এই টাকায় অন্নের সংস্থানটাই ঠিকমত হয় না, ওষুধ তো নিতান্তই বিলাসিতা। স্ত্রী চোখে দেখেন না, সঙ্গে আবার ডায়াবেটিকস। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এমপি, চেয়ারম্যানদের কাছে গেলে তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদায় করে দেন। তাই নিজের ঔষুধের জন্য লোকের কাছে হাত পাততে হয়। যেদিন টাকা ওঠে, সেদিন ওষুধ খান। যুদ্ধের ৪৩ বছর পর ৭০ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধা এভাবে বেঁচে আছেন স্বাধীন দেশে। তিনি বলেন, ”দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু দেশের মানুষ স্বাধীন হয়নি...সবাই সবার স্বার্থ নিয়ে পড়ে আছে।” সত্যিইকি তা নয় ? সবাই যদি নিজের স্বার্থ নিয়ে পড়ে না থাকত, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলীর আজকে এমন অবস্থা থাকে কি? তাঁর চাওয়া- একটুখানি চিকিৎসা নিজের জন্য, স্ত্রীর জন্য। আর একটা মুদির দোকান, একজন মুক্তিযোদ্ধার হাত পাততে কি ভালো লাগে? আমরা তাঁকে একটি মুদির দোকান করে দিয়েছি। তাঁর হাতের চিকিৎসা, স্ত্রীর চোখের জন্য প্রয়োজনীয় সকল খরচ আমরা দিয়েছি।

মুক্তিযোদ্ধা অজিত রঞ্জন আচার্য্য- মিশন ১৯৭১ (২০১৪)

মুক্তিযোদ্ধা অজিত রঞ্জন আচার্য্য- মিশন ১৯৭১ (২০১৪)

কুলাউড়া উপজেলার মনরাজ গ্রামের বাসিন্দা। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন তিনি ক্লাস সিক্সের ছাত্র। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলে গিয়েছিলেন ভারতের কৈলাশ শহরের রিফিউজি ক্যাম্পে। সেখানে প্রায় তিন মাস থাকার পর আর মন টিকছিল না। দেশ স্বাধীন হওয়ার যুদ্ধ চলছে, আর তিনি কী করে পালিয়ে থাকবেন! চলে গেলেন লোহারবনের ট্রেনিং ক্যাম্পে। প্রায় দুই মাস ট্রেনিং নেয়ার পর তাঁদের গ্রুপকে লাঠিটিলায় গেরিলা হামলার জন্য পাঠানো হলো। রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে আবার রাতের মধ্যেই ভারতের ট্রেনিং ক্যাম্পে ফিরে যেতেন। এভাবেই করলেন যুদ্ধ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও সেই নিঃস্ব মানুষের গল্প! সেই গল্পের সবটা জুড়ে তীব্র উপহাস! স্বাধীনতার ৪৩ বছরে এসে ঘর নেই তার! অথচ কি নির্লজ্জ স্পর্ধায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি এই মাটিতে! তাঁর শেষ ইচ্ছা হলো মারা যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য একটা টিনশেডের ঘর বানিয়ে দিয়ে যাওয়া। সারাজীবন দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়ে আসার পর একজন মুক্তিযোদ্ধার সামান্য এক চাওয়া ছিল, 'আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেন একটু ভালো বাসাতে থাকে!' লাইটার ইয়ূথ ফাউন্ডেশন এই মুক্তিযুদ্ধাকে একটি বাড়ি তৈরী করে দিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা নিমাই রায়-মিশন ১৯৭১ (২০১৪)

মুক্তিযোদ্ধা নিমাই রায়-মিশন ১৯৭১ (২০১৪)

পেশায় চা শ্রমিক মুক্তিযুদ্ধা নিমাই রায়! ১৯৭১ সালে ষোল বছর বয়সে দেশের ডাকে সাড়া দিতে চলে গিয়েছিলেন যুদ্ধে। যুদ্ধ করেছিলেন চার নং সেক্টরের কাশিনগর, লোহাউনি বাগান ও শমশেরনগরে। বয়স এখন ষাট। অনেক স্মৃতিই ভুলে গেছেন। অথবা ভুলেন নি! আদতে কথা বলতেই ইচ্ছুক নন এই মানুষটা। তেতাল্লিশ বছর কেটেছে অনাদরে-অবহেলায়, শুনেছেন অসংখ্য আশ্বাসবাণী। কিন্তু সেগুলো শুধু ফাঁকা বুলিই থেকে গেছে! তাই রাগে-ক্ষোভে যুদ্ধের সময়ের কথাই স্মৃতিচারণ করতে চান না। তাঁর একটাই কথা, 'চা শ্রমিক ছিলাম। যুদ্ধের ডাক এসেছে, তাই দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধে গেছি। দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর আবার চা বাগানে কাজে যোগ দিয়েছি।' সাদাসিধে মানুষটার মনে কতটা কষ্টের বোবা আর্তনাদ, কতটা বিতৃষ্ণা তাঁর এই জীবনের প্রতি!
মুক্তিযুদ্ধা নিমাই রায়কে তাঁর উপার্জনের জন্য লাইটার ইয়ূথ ফাইন্ডেশন একটি মুদি দোকান করে দিয়েছে ।

মিশন নীলফামারী (প্রস্তাবিত মিশন মডেল ভিলেজের প্রাথমিক পদক্ষেপ)

মিশন নীলফামারী (প্রস্তাবিত মিশন মডেল ভিলেজের প্রাথমিক পদক্ষেপ)

২০১৬ সাল, প্রস্তাবিত মিশন মডেল ভিলেজের গ্রাউন্ডওয়ার্কের জন্য তিস্তার পাড়ের নীলফামারীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয় লাইটার ইয়ূথ ফাউন্ডেশন। সার্ভে করে ৪০ টি পরিবারকে এই সাহায্য দেওয়া হয়। প্রাইমারি একটি তালিকা করে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়েছি, তাঁদের কি ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেসব জানতে চেয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের চাহিদা অনুযায়ী পশ্চিমগোলমুণ্ডা, চৈতনের ঘাট এবং বানপাড়ার ৩৭টি পরিবারকে দেই গরু, ২টি পরিবারকে মুদি দোকান এবং ১টি পরিবারকে ক্ষুদ্র কুটির ব্যবসার জন্য মূলধন। সাহায্য করার উদ্দেশ্যটা সুদূরপ্রসারী, আগামী বছরের বন্যায় যেন তাঁদের আর কারো সাহায্যের আশায় বসে থাকতে না হয়, সেটিই নিশ্চিত করতে চেয়েছি আমরা। এই গ্রাউন্ডওয়ার্ক এর নাম ছিল #মিশন_নীলফামারী।

এসব সাহায্যেই যে তাদের জন্য পর্যাপ্ত তা কিন্তু নয়। এরকম হতদরিদ্র মানুষদের জীবনে ঘুরে দাঁড়াবার জন্য একটু সাহসের প্রয়োজন, প্রয়োজন একটুখানি অনুপ্রেরণা।

মুক্তিযোদ্ধা দীপক চক্রবর্তী-মিশন ১৯৭১ (২০১৪)

মুক্তিযোদ্ধা দীপক চক্রবর্তী-মিশন ১৯৭১ (২০১৪)

কুলাউড়া উপজেলার লোহাউনি বাগানের বাসিন্দা। ১৯৭১ সালে ১৬ বছরের টগবগে তরুন, ক্লাস নাইনে পড়ছেন। একটা স্বাধীন দেশ, একটা পতাকার জন্য নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই যুদ্ধে যোগদান করেন। বয়স কম থাকায় প্রথমে নিতে চাননি কমান্ডার। কিন্তু কমান্ডারের পায়ে ধরে সে কী অনেক কাকুতি মিনতি! পরে কমান্ডার বাধ্য হলেন তাঁকে সঙ্গে নিতে। প্রায় চার মাস ট্রেনিং দেয়ার পর ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে বলে উঠেন, 'আমি যুদ্ধে যাব, যুদ্ধে!' এরপর যুদ্ধে গেলেন, দুঃসাহসী সব মিশনে অংশ নিলেন, হানাদারদের বিতাড়িত করতে গিয়ে গুলিও খেয়েছেন। অথচ জীবন যুদ্ধে আজ তাঁকে চা বাগানে কাজ করতে হচ্ছে। রাত গভীর হলে ঘুম ভেঙে যায় তাঁর দুশ্চিন্তায়, 'আমার কিছু হলে মেয়ের কি হবে, স্ত্রীর কি হবে!'
শেষ বয়সে তাঁকে “লাইটার ইয়ূথ ফাউন্ডেশন” একটি মুদির দোকান করে দিয়েছে। তাঁর এইচএসসি পাশ মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য যাবতীয় খরচ আমরা বহন করছি।

মুক্তিযোদ্ধা শ্রী হরেন্দ্র দাস- মিশন ১৯৭১(২০১৪)

মুক্তিযোদ্ধা শ্রী হরেন্দ্র দাস- মিশন ১৯৭১(২০১৪)

১৯৭১ সাল, ১৯ বছরের হরেন্দ্র তখন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল। ভারতের লোহারবনে ট্রেনিং নিয়ে প্রথমে কুকিরতলে, তারপর জুরিতে যুদ্ধ করেন। ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ঝটিকা হামলা চালিয়ে আবার ট্রেনিং ক্যাম্পে ফিরে যেতেন। এরকম কতবার যে গুপ্ত হামলা চালিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই। দেশের ইজ্জত রক্ষার্থে যদি মারা যেতেন তাতেও তাঁর কোন আফসোস ছিলো না। তাঁর খারাপ লাগে শুধু একটি কারণে, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও কোন মুল্যায়ন পাননি। নিজে এখনো ঠেলা চালান, কারো বাড়ীতে গিয়ে কাজ করেন। এভাবেই চালাচ্ছেন নিজের পরিবার। সদা হাসি লেগে থাকে তাঁর মুখে। তাঁর সঙ্গে কথা না বলে শুধু দেখে ঠাউর করা কঠিন, কত না কষ্ট তাঁর বুকে জমাট বাধা! একটাই চাওয়া, তাঁকে একটি ঘর করে দেওয়া হোক। এখনো হাত-পা আছে, কিছু না কিছু করে খেতে পারবেন। কিন্তু আমৃত্যু চেষ্টা করলেও একটা টিনের বাড়ি যে করা হবে না তাঁর!
এই মুক্তিযুদ্ধার স্বপ্ন পূরনের জন্য লাইটার ইয়ূথ ফাইন্ডেশন একটি টিনশেড ঘর করে দিয়েছে।

Contact Us

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.

Not readable? Change text.
0

Start typing and press Enter to search